Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

ভাষা ও সংষ্কৃতি

ভাষাঃ

কচুয়া উপজেলার অধিকাংশ অঞ্চলে বন সরিয়ে জনপদ গড়ে উঠেছিল।পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা হতে আগত ব্যক্তিবর্গের আঞ্চলিক ভাষার প্রভাবে এ অঞ্চলের বিভিন্ন জনপদের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে ভিন্নতা হয়। মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা উপজেলার অধিবাসীদের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিকভাষার প্রভাব দেখা যায়। রামপাল , মোংলা ও ফকিরহাট উপজেলায় খুলনার আঞ্চলিকভাষার প্রভাব হয়। মোল্লাহাট, চিতলমারী অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার সাখে গোপালগঞ্জের আঞ্চলিকভাষার সামঞ্জস্য রয়েছে। মূলতঃ এ অঞ্চলের অধিবাসীদের একটি সাধারণ আঞ্চলিকভাষায় চিহ্নিত করা কঠিন।

সংস্কৃতিঃ

এ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবার আর্দশ পরিবারের দৃষ্টান্ত। কৃষি তাদের প্রধান পেশা।প্রাক্বৈদিক, বৈদিক, আর্য, বৌদ্ধ , মুসলমান সব যুগের প্রভাবে এ উপজেলায় মিশ্র সংস্কৃতিগড়ে উঠেছে। মোরগ ডাকা ভোরে আড়মোড় ভেঙ্গে এখানে শুরু হয় দিনের নিত্যকার্যক্রম। পুরুষহাল, বৈঠা,জাল নিয়ে নিত্য কর্মে বেড়িয়ে পড়ে। নারী মন দেয় গৃহ কাজে। মাঝে মাঝে নারী পুরুষ একসাথে মাঠে কাজ করে। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও এগিয়ে রয়েছে। সহ-শিক্ষা কার্যক্রমও র্দীঘদিনের। পরিবারের প্রধান পুরুষ। নারী রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। এখানে মাঅত্যন্ত সন্তান বৎসল। পুত্র সন্তানের প্রতি বাৎসল্যের আধিক্য রয়েছে।যুক্তপরিবার দিন দিন লোপ পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে মহিলারা শাড়ি পড়ে। কনেকে লাল শাড়ি পরানোর রেওয়াজ রয়েছে। মেয়েরা দুহাত ভরে কাঁকন পরে। মেয়েদের পর্দা পরতে দেখা যায়। স্বামী নিজ হাতে সিঁদুর পরালে মঙ্গল বেশী হয় বিবেচনায় বিবাহিত হিন্দু নারীরা স্বামীর হাতে সিঁদুর পরতে পছন্দ করে। গ্রামাঞ্চলের পুরুষরা লুঙ্গি পরে। পুরুষরা সর্বত্র শার্ট পরে। ঘর গুলোতে সচরাচর চৌচালা, গোলপাতার ছাউনি, বাঁশ বা কাঠের বেড়া এবং মাটির ভিত দেখা যায়। ইঁদুর বা অন্য প্রাণীর উপদ্রব হতে  পেতে হাড়ি শিকায় ঝুলাতে দেখা যায়। শারদীয় দুর্গা উৎসব ও ঈদে উভয় সম্প্রদায়কে বর্ণাঢ্য পোষাক পরে আনন্দ করতে দেখা যায়। এলাকাবাসী নাটক , যাত্রা, মেলা, ষাঁড়ের লড়াই , নৌকা বাইচ ইত্যাদি দেখতে খুব পছন্দ করে। খেলাধুলাও তাদের খুবপ্রিয়। সন্তান জন্মের পর হিন্দুর ঘরে অন্ন প্রাশন আর মুসলমানের ঘরে আক্কিকা হয়। উভয় সম্প্রদায় দরগাহ ও পবিত্র স্থান পরিদর্শন করে। ভুত-পেত্নী, জ্বীন-পরীর অস্তিত্ব সম্পর্কে এখানে কিছু কুসংস্কার রয়েছে। ভাত ও মাছ এ উপজেলার প্রধান খাদ্য। উপজেলার সর্বত্র রন্ধন প্রনালী প্রায় একই রকম। ভাটি অঞ্চলের অধিবাসীদের সঙ্গীত বিশেষ করে ভাটিয়ালী গান অত্যন্ত প্রিয়।